Posts

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতে জন্ম ও মৃত্যু: কেন এই দুঃসহ অবস্থাতেও সন্তান জন্ম নেয়?

Image
ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতে জন্ম ও মৃত্যু: কেন এই দুঃসহ অবস্থাতেও সন্তান জন্ম নেয়? ১. যুদ্ধক্ষেত্রে মানবিক সংকট: শিশুদের মৃত্যু ও জাতিগত সহিংসতা ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত এক দীর্ঘস্থায়ী, মারাত্মক ও হৃদয়বিদারক বিষয়। এই সংঘাতে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হয় শিশুরা, যারা নিরাপদ আশ্রয় ও বাঁচার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। নিরস্ত্র শিশুদের প্রাণ হারানো সমাজে গভীর শোক এবং মানবিক সংকটের প্রতিফলন। যুদ্ধের চাপে শিশুদের মৃত্যু কেবল পরিবার নয়, পুরো জাতির জন্য এক বড় ক্ষতি। এতে শিশুদের নিরাপত্তা ও বিকাশের স্বাভাবিক পরিবেশ সম্পূর্ণ বিঘ্নিত হয়। ২. গাজার বাস্তবতা: খাদ্য, চিকিৎসা, বিদ্যুৎহীন জীবনে টিকে থাকার লড়াই গাজা অঞ্চলে অবরোধ ও যুদ্ধের ফলে খাদ্য, পানি, চিকিৎসা ও বিদ্যুতের সরবরাহ কঠিন হয়ে পড়েছে। এই বাস্তবতার মধ্যে শিশুদের জন্ম ও লালন-পালন করা কতটা কষ্টসাধ্য তা কল্পনা করা যায়। তবু অনেক পরিবার, বিশেষ করে গরিব ও দ্বিধ...

ইসলামের উত্থান: আরব উপদ্বীপের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট

Image
      ১. সপ্তম শতকের আরব উপদ্বীপের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট ইসলাম ধর্মের উত্থান বোঝার জন্য প্রথমেই যে বিষয়টি বুঝতে হবে, তা হলো সেই সময়কার আরব উপদ্বীপ কেমন ছিল। নবী মুহাম্মদ ইসলামের প্রচার শুরু করেন সপ্তম শতকে (৬১০ খ্রিস্টাব্দ থেকে), যখন মক্কা ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র। কিন্তু পুরো উপদ্বীপ ছিল রাজনৈতিকভাবে খণ্ডিত, উপজাতিগত সংঘাতপ্রবণ, ও সামাজিকভাবে গভীরভাবে বিভক্ত। রাজনৈতিক অবস্থা:    * রাজ্যব্যবস্থা অনুপস্থিত ছিল: আরব উপদ্বীপে কোনো কেন্দ্রীয় শাসন ছিল না। বিভিন্ন গোত্র (tribes) ছিল আলাদা, স্বায়ত্তশাসিত এবং প্রায়শই একে অপরের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত থাকত।     *গোত্রপ্রধান ছিল শাসক ও বিচারক: প্রতিটি গোত্রের নেতা ছিলেন স্বতন্ত্র সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী। আইন ছিল গোত্রীয় রীতি ও প্রথানির্ভর। একেক গোত্র একেক নিয়ম মানত।     *বহিঃশক্তির প্রভাব: উত্তরে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য এবং পূর্বে পারসিক (সাসানিড) সাম্রাজ্যের প্রভাব ছিল উপদ্বীপের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে। তবে মক্কা এবং হিজাজ অঞ্চল ছিল এই দুই সাম্রাজ্যের বাইরের, কিছুটা ‘ফাঁকা’ জায়গা। সা...

নবুওয়াতের মানদণ্ড: মুহাম্মদ কি সত্যিই নবী ছিলেন? (পর্ব-০২)

Image
    মুহাম্মদ: নারী-সম্মান না নারী-কৌশল? ইসলামী বিবরণ অনুসারে, মুহাম্মদ নারীদের ‘মর্যাদা’ দিয়েছেন। কিন্তু ঐতিহাসিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়: মুহাম্মদের বিয়ে ও নারীদের ব্যবহার: ১১টি স্ত্রী ছিলেন মুহাম্মদের (আয়েশা, খাদিজা, হাফসা, জয়নব, সাওদা, উম্মে সালমা, উম্মে হাবিবা, মায়মূনা, জুয়াইরিয়া, সাফিয়া, রাইহানা)। এর বাইরে ছিলেন বহু দাসী ও গণিমতের নারীরা , যাদের তিনি ‘বিবাহ’ না করেই সহবাস করেছেন। আয়েশার বয়স : ইসলামী হাদিস অনুযায়ী, মুহাম্মদ আয়েশাকে ৬ বছর বয়সে বিবাহ করেন এবং ৯ বছর বয়সে সহবাস করেন। আজকের মানবাধিকার ও শিশু-অধিকার মানদণ্ডে এটি নৈতিক অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। সাফিয়ার ঘটনা : খায়বার যুদ্ধের পর, মুহাম্মদ সাফিয়ার স্বামী ও পরিবারের অনেককে হত্যা করেন। পরে তাঁকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেন। সাফিয়া তখন বন্দী অবস্থায় ছিলেন। একে “বিবাহ” বলা হলেও এটি ক্ষমতার অবস্থান থেকে গৃহীত যৌন সম্পর্ক , যা আধুনিক সংজ্ঞায় সহানুভূতির মুখোশে মোড়ানো ধর্ষণ হিসেবেও দেখা যেতে পারে। গণিমতের মাল ও দাসী ব্যবহার : মুহাম্মদ কুরআনের ৪:২৪, ৩৩:৫০ ইত্যাদি আয়াতে ঘোষণা করেন যে, যুদ্ধ থেকে প্রাপ্ত ...