Posts

Showing posts with the label হিন্দুধর্ম

গরুর বেলায় গোমাতা। অন্য প্রাণী সৎমাতা?

Image
  পড়ার আগে ভিডিওটি দেখে নিন  অধ্যায় ১: ভূমিকা – গরু বনাম বলি: একটি দ্বৈত মানসিকতা হিন্দু ধর্মে গরু একটি পবিত্র প্রাণী হিসেবে গণ্য। এর দুধ, মূত্র ও গোবরকে পর্যন্ত অলৌকিক গুণে গুণান্বিত মনে করা হয়। তাই যখন কেউ গোহত্যা করে, তখন অনেক হিন্দু গোঁড়ামি, প্রতিবাদ, এমনকি সহিংসতাও দেখায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই উচ্চকণ্ঠস্বর কি সর্বজনীন নৈতিকতার ভিত্তিতে, নাকি এটি কেবল তাদের নিজের ধর্মীয় পরিচয়ের নিরাপত্তার জন্য? সেই হিন্দুরাই, যারা গরুর জন্য চোখে জল ফেলেন, প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ ছাগল, ভেড়া, মহিষ, এমনকি কচ্ছপ পর্যন্ত বলি দেন ধর্মীয় আচার হিসেবে। দুর্গাপূজা ও কালীপূজায় বলি একটি প্রাচীন প্রথা হলেও আজও তার বাস্তবতা নৃশংস ও রক্তাক্ত। এই বলিগুলো কি প্রাণীর প্রতি দয়ার পরিচয় দেয়? নাকি এটি এক সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নিষ্ঠুরতা, যা ধর্মের নামে বৈধতা পায়? অধ্যায় ২: ধর্মীয় বলির ইতিহাস – বৈদিক যুগ থেকে বর্তমান ধর্মীয় বলির ইতিহাস কোনো একক ধর্ম বা সম্প্রদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তবে হিন্দুধর্মের প্রাচীন গ্রন্থ ও আচার-অনুষ্ঠানে বলির যে দিকটি প্রতিভাত হয়, তা বিশেষভাবে গভীর ও রক্তাক্ত। বিশেষ করে বৈদিক যুগ থেকে শুরু ...

ঋষি জাবালি কি নাস্তিক ছিলেন?

Image
    ১. ঋষি জাবালিকে নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত: রামায়ণের মূল ঘটনাটি কী? ঋষি জাবালিকে নিয়ে নাস্তিকতার প্রশ্নটি প্রধানত আসে রামায়ণের এক বিশেষ অংশ থেকে। বাল্মীকি রামায়ণের অযোধ্যা কাণ্ডে একটি ঘটনায় দেখা যায়—যখন রাম বনবাসে যাচ্ছেন, তখন কিছু ব্রাহ্মণ ও ঋষি তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যাতে তিনি বন না যান। এদের মধ্যে একজন ছিলেন ঋষি জাবালি। তিনি রামকে ফিরে যেতে অনুরোধ করেন এবং সেই অনুরোধের সময় তিনি যে যুক্তিগুলো দেন, তা চমকপ্রদভাবে ধর্মবিরোধী ও বস্তুবাদী মনে হয়। জাবালি বলেন:     “তুমি যাকে ‘পিতা’ বলছো, তিনি এখন মৃত। মৃত ব্যক্তিকে জীবিত বলে ধরে রেখে তার আদেশ পালন করা বোকামি। মৃতদেহ তো কেবল ভস্ম হয়ে যায়—তাতে আর কী রইলো যে তার কথা মানতে হবে? তুমি বনবাসে গিয়ে কেবল কষ্ট পাবে, কিছুই পাবে না।” এই কথাগুলো থেকে অনেকে ধারণা করে থাকেন যে, ঋষি জাবালি ছিলেন চার্বাক দর্শনের অনুসারী বা নাস্তিক। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই মত কি সত্যিই তার নিজের ছিল, নাকি এর পিছনে ছিল অন্য কোনো কারণ? ২. ঋষি জাবালির বক্তব্য কি চার্বাক দর্শনের সাথে মিলে যায়? জাবালির যে বক্তব্যটি আমরা রামায়ণে পাই, তা স্পষ্...

রামমোহন রায়: যিনি কলম দিয়ে সমাজ বদলেছেন

Image
  ১. প্রাথমিক জীবন ও শিক্ষা রাজা রামমোহন রায় ১৭৭২ সালের ২২শে মে, পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার রাধানগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা রামকান্ত রায় ছিলেন একজন ব্রাহ্মণ জমিদার এবং একজন সংস্কৃতজ্ঞ। মা ত্রিপুরাসুন্দরী দেবী ছিলেন ধর্মপরায়ণ ও ঐতিহ্যবাদী। এই দুই বিপরীতধর্মী প্রভাব রামমোহনের চিন্তাভাবনার উপর গভীর ছাপ ফেলেছিল। ছোটবেলায়ই রামমোহন সংস্কৃত ও প্রথাগত হিন্দু শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি বেদ, উপনিষদ, স্মৃতি, পুরাণ প্রভৃতি শাস্ত্র পাঠ করেন। কিন্তু শৈশবেই কিছু ধর্মীয় কুসংস্কার তাঁকে বিচলিত করেছিল। বিশেষ করে, দেবতা পূজার আড়ম্বর ও বৈষম্যমূলক আচরণ তাঁকে প্রশ্ন করতে বাধ্য করে। রামমোহনের শিক্ষাজীবনের একটি বিস্ময়কর দিক হলো, তিনি একাধারে বহু ভাষায় দক্ষ ছিলেন। সংস্কৃত, বাংলা, ফারসি, আরবি এবং পরে ইংরেজি ভাষায় তাঁর দখল ছিল অসাধারণ। ফারসি ও আরবি শিখতে তিনি পাঠান যান পাটনায় এবং সেখানে ইসলাম ধর্ম ও সুফি দর্শনের প্রভাব পড়ে তাঁর উপর। এর ফলে তিনি একেশ্বরবাদের ধারণায় আকৃষ্ট হন। পরে তিনি কাশিতে গিয়ে সংস্কৃত পড়েন, এবং শেষপর্যন্ত কলকাতায় এসে ইংরেজি, ল্যাটিন ও গ্রিক ভাষা শিখেন। পাশ্চাত্য বিজ্ঞান,...

হিন্দু ধর্মের উৎপত্তি: আর্য ঋষিগণ ও বৈদিক সভ্যতা

Image
১. আর্য ঋষিগণ ও হিন্দু ধর্মের শুরুর ধাপ হিন্দু ধর্মের শিকড় মূলত বৈদিক যুগে নিহিত, যা আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০-৫০০ অব্দের মধ্যে গড়ে উঠেছে। এই ধর্মের বিকাশে মূল ভূমিকা পালন করেন আর্য ঋষিগণ, যারা বৈদিক সাহিত্য রচনা করেন এবং ধর্মীয় ও দার্শনিক চিন্তাধারার ভিত্তি স্থাপন করেন। আর্যরা মূলত উত্তর ভারতে প্রবেশকারী একটি জাতিগোষ্ঠী, যারা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর অংশ ছিল। তারা সিন্ধু-সরস্বতী সভ্যতার সাথে মিশে এক নতুন ধর্মীয় সংস্কৃতি গড়ে তোলে, যা পরে হিন্দু ধর্মের ভিত্তি হয়ে ওঠে। এই ঋষিরাই প্রথম বৈদিক মন্ত্র ও উপাসনার ধারণা প্রতিষ্ঠা করেন এবং ঋগ্বেদ, সামবেদ, যজুর্বেদ ও অথর্ববেদের মতো ধর্মগ্রন্থ সংকলন করেন। তাদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ঋষিরা হলেন— ঋষি অত্রি ঋষি ভৃগু ঋষি বিশ্বামিত্র ঋষি বাসিষ্ঠ ঋষি গৌতম ঋষি অঙ্গিরস এদের মধ্যে কেউ কেউ পুরোহিত শ্রেণির প্রতিনিধি ছিলেন, আবার কেউ ছিলেন দার্শনিক, যারা মহাজাগতিক সত্যের অনুসন্ধান করতেন। ২. বৈদিক সাহিত্য: হিন্দু ধর্মের প্রাচীনতম ধর্মগ্রন্থ হিন্দু ধর্মের মূল ভিত্তি চারটি বেদ, যা আর্য ঋষিদের দ্বারা সংকলিত হয়। এগুলো শুধুমাত্র ধর্মীয় অনুশাসনই নয়, বরং দর্শন...