নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়: জ্ঞানের জ্যোতি থেকে বক্তিয়ার খিলজির আগুন পর্যন্ত
ভূমিকা মানব সভ্যতার ইতিহাসে এমন কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে যেগুলো শুধু একটি দেশের নয়, সমগ্র বিশ্বের জ্ঞানচর্চাকে নতুন দিকনির্দেশনা দিয়েছিল। নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় তেমনই এক প্রতিষ্ঠান। আধুনিক অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ বা হার্ভার্ডের বহু শতাব্দী আগে, ভারতবর্ষে নালন্দা ছিল বিশ্বের বৃহত্তম আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে একসাথে হাজার হাজার ছাত্র-শিক্ষক শিক্ষা ও গবেষণায় নিমগ্ন থাকত। এটি কেবল একটি শিক্ষাকেন্দ্রই ছিল না, বরং ছিল একটি সম্পূর্ণ নগররাষ্ট্রের মতো—যেখানে দর্শন, বিজ্ঞান, চিকিৎসাশাস্ত্র, গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান থেকে শুরু করে সাহিত্য ও শিল্পকলার বিস্তৃত চর্চা হত। নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষত্ব ছিল এর সর্বজনীনতা। এখানে বৌদ্ধ ধর্মতত্ত্বের পাশাপাশি হিন্দু দর্শন, সাময়িক জ্ঞান, যুক্তিবিদ্যা, এমনকি বিদেশি চিন্তাধারাও পড়ানো হতো। ফলে এটি ভারতীয় উপমহাদেশকে জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে আন্তর্জাতিক মানচিত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছিল। চীন, কোরিয়া, তিব্বত, জাপান, শ্রীলঙ্কা এমনকি মধ্য এশিয়া থেকেও জ্ঞানপিপাসুরা এখানে আসত শিক্ষালাভের জন্য। তবে দুঃখজনক হলো—যে নালন্দা একসময় মানব সভ্যতার আলোকস্ত...